জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জনপ্রিয় ও মেধাবী ব্যক্তিত্ব প্রধান প্রকৌশলী তুষার মোহন সাধু খাঁ

আউলিয়া বেগম আলো : জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জনপ্রিয় ও মেধাবী ব্যক্তিত্ব প্রধান প্রকৌশলী তুষার মোহন সাধু খাঁ। তিনি জনস্বাস্থ্যে যোগদান করেই নজর দেন আরও কিভাবে এ অধিদপ্তরের উন্নয়ন করা যায়। আর সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আর তার এ পরিশ্রমের কারণে অধিদপ্তরটি অতিতের তুলনায় উন্নয়নের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা যায়।
তাঁর সুন্দর আচরণ, মিষ্ঠ ভাষায় সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। আর এতেই আস্থা বাড়ছে জনসাধারণের মনে কোঠায়।
অক্লান্ত পরিশ্রম, মেধা এবং যোগ্যতার কারণে তিনি প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। নিরাপদ পানি সরবরাহের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ণের দায়িত্ব অর্পন করে ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)। পরবর্তীতে ১৯৪৫ সালে-এর সাথে যুক্ত করা হয় স্যানিটেশন সেবা প্রদানের দায়িত্ব। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের অব্যহিত পরে সরকার প্রথমেই ধ্বংসপ্রাপ্ত পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন পদ্ধতি গুলোর পুনর্বাসনের গুরুত্বারোপ এবং তৎপরবর্তীতে নতুন অবকাঠামো স্থাপন শুরু করে ডিপিএইচই’র মাধ্যমে। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ওয়াসার আওতাধীন এলাকা ব্যতীত (ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা) সমগ্রদেশের নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যাবস্থা নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এ অধিদপ্তরের উপর ন্যাস্ত। জনসাধারনের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখে। জনগণের নিকট নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা পৌছানোর লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এরই ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন কভারেজের দিক দিয়ে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম শীর্ষ স্থান দখল করে আছে।
পল্লী এলাকার বিভিন্ন ধরনের নিরাপদ পানির উৎস (টিউবওয়েল) ও স্যানিটারী লেট্রিন স্থাপনাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর প্রধান দায়িত্ব। তাছাড়া অত্র অধিদপ্তর পল্লী পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন অবকাঠামো নির্মাণোত্তোর রক্ষণাবেক্ষণে ইউনিয়ন পরিষদকে ডঅঞঝঅঘ কমিটির মাধ্যমে কারিগরী সহায়তা প্রদান, স্বাস্থ্য পরিচর্যা জোরদারকরণ এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে থাকে। দ্রুত নগরায়নের ফলে পৌর পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন চহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ চাহিদা পুরণে অত্র দপ্তর পৌরসভা সমূহের পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন অবকাঠামো নির্মাণ সহ কারিগরী সহায়তার আওতায় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে সহায়তা করছে।
এছাড়া বন্যা , সাইক্লোন, মহামারী ইত্যাদির কারণে সৃষ্ট জরুরী পরিস্থিতিতে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সচল রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) প্রধান প্রকৌশলী হলেন তুষার মোহন সাধু খাঁ।
তুষার মোহন সাধু খাঁ ১৯৮৯ সালের ২০ ডিসেম্বর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১৮টি জেলা শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্পে যোগদান করেন। এরপর ১৯৯০ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত ঢাকার গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০২ পর্যন্ত প্রথমে ঢাকার গ্রাউন্ড ওয়াটার সার্কেল, পরে সাতক্ষীরা ও মাগুরায় ১৮টি জেলা শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্পের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০০২ সালের ২১ মে মেহেরপুরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পান। পরের বছর ২০০৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ বিভাগ, ‘পানির গুণগত মান পরিবীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ সার্কেল’ এবং ঢাকার ‘গ্রাউন্ড ওয়াটার বিভাগের’ নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পরিকল্পনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের ১৩ মে থেকে ২০১৯ সালের ৪ জুলাই পর্যন্ত পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া, ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ডিপিএইচই’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর (পরিকল্পনা) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর একই বছরের ২০ মে তাকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর (পরিকল্পনা) চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়। এবং ২০২০ সালের ২৮ মে তাকে সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয় মন্ত্রণালয়।
চাকরি জীবনে সর্বক্ষেত্রে আলো ছড়ানো তুষার মোহন সাধু খাঁ ১৯৬৬ সালের ১০ জুন চুয়াডাঙ্গার দামড়ুহুদা উপজেলার দামুড়হুদা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এরপর বাবার চাকরির সুবাদে খুলনায় বেড়ে ওঠেন তিনি। ১৯৮১ সালে খুলনা রোটারী স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে তিনি প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর ১৯৮৩ সালে স্বনামধন্য খুলনার বি.এল.কলেজ থেকে ১ম বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। ১৯৮৮ সালে বি. এস. সি ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল) কুয়েট থেকে স্ট্রাকচার, আরসিসি, হাইড্রোলজি, হাইড্রোলিক্স, ফাউন্ডেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, পানি সরবরাহ এবং সিউয়ারেজ ইঞ্জিনিয়ারিং ও ট্রান্সপোটেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *