জনতার কণ্ঠ ডেস্ক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এককভাবে সরকার গঠনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু করেছে দলটি। আগামী মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। একই দিনে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে তিনিই হচ্ছেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে দেশে ফেরা এই নেতা এবার একটি ‘স্মার্ট ও জবাবদিহিমূলক’ সরকার গঠনের অঙ্গীকার করেছেন। তার লক্ষ্য—দক্ষ, সৎ ও কর্মক্ষম নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি কার্যকর প্রশাসন গড়ে তোলা।
ছোট কিন্তু কার্যকর মন্ত্রিসভা
বর্তমানে সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগ মিলিয়ে সংখ্যা ৫৮টি। তবে নতুন সরকার মন্ত্রিসভার আকার ছোট রাখতে চায়। দলীয় সূত্র বলছে, সদস্য সংখ্যা ৩০ জনের বেশি হবে না। অর্থাৎ আকারে ছোট হলেও কার্যকারিতায় শক্তিশালী একটি টিম গঠনই হবে প্রধান লক্ষ্য।
দলটির হাইকমান্ড চায়—নবীন ও প্রবীণ নেতাদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা। অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি রাজপথে পরীক্ষিত তরুণ নেতারাও সুযোগ পেতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে এ ধরনের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নতুন মুখের পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেতৃত্ব
নতুন সরকারে কারা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হচ্ছেন—তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে ইতোমধ্যে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। সংসদ সদস্যদের শপথ, মন্ত্রিসভা গঠন ও সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা চলছে। কেমন হবে সেই মন্ত্রিসভা—তা এখনই নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে দল ভালো কিছুই উপহার দিতে চায়।
আলোচনায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ নেতা
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকতে পারেন অভিজ্ঞ কয়েকজন নেতা। আলোচনায় রয়েছেন—
-
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
-
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
-
মির্জা আব্বাস
-
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
-
ড. আব্দুল মঈন খান
-
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
-
সালাহউদ্দিন আহমদ
-
এ জেড এম জাহিদ হোসেন
-
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ
এ ছাড়া আরও অনেক নির্বাচিত সংসদ সদস্যের নাম সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে শপথ গ্রহণের পর।
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়েও ভাবনা
শুধু নির্বাচিত সংসদ সদস্য নন, মেধাবী ও পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদেরও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা রয়েছে। এদের বলা হয় ‘টেকনোক্র্যাট’ মন্ত্রী। সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক টেকনোক্র্যাট নিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে আলোচনায় আছেন—
-
নজরুল ইসলাম খান
-
রুহুল কবির রিজভী
-
হুমায়ুন কবির
-
ড. মাহদী আমিন
-
গিয়াস আহমেদ
-
বিজন কান্তি সরকার
মন্ত্রিসভা ৪০ সদস্যের হলে সর্বোচ্চ চারজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী রাখা যাবে—সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৬ অনুযায়ী এমন বিধান রয়েছে।
চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে বিএনপি। ফলে জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। দলীয় সংহতি বজায় রাখা, প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনা—এসব হবে নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
তারেক রহমানের সামনে সবচেয়ে বড় কাজ হবে—একটি এমন মন্ত্রিসভা গঠন করা, যারা নিজেদের শাসক নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। দক্ষতা, সততা ও জবাবদিহিতার সমন্বয়ে যদি সরকার পরিচালিত হয়, তবে ‘নতুন ভোর’-এর প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলবেই। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—নতুন সরকার গঠনে চমক রাখতে চান তারেক রহমান, আর সেই চমকই হতে পারে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।