আউলিয়া বেগম আলো : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেছেন মোহাম্মদ জাবেদুর রহমান। যোগদানের পূর্বে তিনি সিলেট মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার ছিলেন। ৩ সেপ্টেম্বর তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বদলি আদেশ হয়। এরপর তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ সুপারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০০৫ সালে ২৪ তম বিসিএসের মাধ্যমে পুলিশে যোগ দেওয়া এ কর্মকর্তা ২০১৮ সালে পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পান। কর্মজীবনে এএসপি হিসেবে টাঙ্গাইল ও নোয়াখালী সদর সার্কেল এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে ঢাকায় নৌপুলিশ এবং সিলেট জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে দায়িত্ব পালন করেন।
যোগদানের পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাবেদুর রহমান বলেন, পুলিশের প্রতি মানুষের ক্ষোভ আছে, কারণ পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করে নাই। কমান্ডিং থেকে নিচের স্তর পর্যন্ত সবাই অসুস্থ প্রতিযোগীতার মধ্যে দিয়ে পার করেছে। একটা দলের আজ্ঞাবাহ হয়ে কাজ করতে হয়েছে। সবকিছুতে পুলিশ টাকা নিয়েছে বলে একটা দুর্নাম ছিল। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এখন আর কোনো রাজনৈতিক দলের চাপ নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
পুলিশ সুপার জাবেদুর রহমান আরও বলেন, ‘পুলিশে অনেক আবর্জনা আছে। এগুলো দূর করতে হবে। পুলিশের মনোবল একেবারে ভেঙে যাবে এমন কোনো বিষয় নেই। সেই পুলিশের মনোবল ভাঙবে যে অসৎ। আর যে পেশাদারিত্বে থাকবে তার মনোবল ভাঙার কোনো কারণ নেই। তবে এটা ঠিক যে নানা কারণে পুলিশের কার্যক্রমে ধীরগতি আছে। এ অবস্থা থেকে কাটিয়ে উঠার চেষ্টা চলছে। সদর দপ্তর থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে আমাদেরকে যথেষ্ট সাপোর্ট দেওয়ার। কিন্তু ইচ্ছা করলেই সব কিছু এখনই করা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কিছু ত্রুটি ছিলো। সেই ত্রুটি সংশোধনের চেষ্টা করবো। আমরা সুযোগ দিচ্ছি। আপনারাও সুযোগ দিবেন। কেউ পুলিশকে ঘুষখোর বললে আমারও খারাপ লাগে। আমরা এ অবস্থা থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করছি। আশা করছি ভালো কিছু হবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশে কিছু কুলাঙ্গার রয়েছে, আর সেই কুলাঙ্গারদের দায় আমরা নেব না। এখন বিচার করবে জনগণ। বর্তমান সময়ের পুলিশ যদি কুলাঙ্গার হয় তাহলে কুলাঙ্গার বলবেন। পুলিশের যেহেতু দোষ-ত্রুটি রয়েছে আমরা চাই সংশোধন হতে, সংশোধনের সুযোগ করে দেবেন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হতে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশের ওপর মানুষের ক্ষোভ ছিল কারণ পুলিশ তার নিজ দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করেনি। ওপর মহলের অফিসার থেকে নিচ পর্যন্ত একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতায় দিন পার হয়েছে। নির্দিষ্ট একটি দলের পেটোয়া বাহিনী হয়ে পুলিশ কাজ করবে সেটি কেউ প্রত্যাশা করে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন নিয়ে সেই জনগণকে সেবা দিতে পারেনি। গত ১৫ বছরের অনেক ত্রুটি, অনেক আবর্জনা আছে তা দূর করার চেষ্টা চালিয়ে যাব।
তিনি আরও বলেন, আমি আশার বাণী শোনানোর জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসিনি। প্রোটোকল ছাড়াই শহরে ঢুকে ট্রাফিক ব্যবস্থা সম্পর্কে আইডিয়া নিয়েছি। শহরের যানজটের বাস্তব চিত্র অনেকটাই খারাপ। তাই ইতোমধ্যে শহরের যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল করতে কাজ শুরু হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীকে সেবা দিতে যা প্রয়োজন তা আমাদের পুলিশ প্রশাসন করবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ প্রশাসনের কার্যক্রমে গুণগত পরিবর্তন পাবেন।
তিনি এর জন্যে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।