হল সিট বরাদ্দ নিয়ে উত্তপ্ত জাবিপ্রবি

শিক্ষা ডেস্ক :

শিক্ষার্থীদের তালাবদ্ধ অবস্থায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন প্রক্টর-প্রভোস্টসহ ৭ কর্মকর্তা

হলের সিট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি)। শিক্ষার্থীদের একাংশের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হল প্রভোস্টসহ সাতজন কর্মকর্তা সাড়ে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে মির্জা আজম হলের (প্রস্তাবিত বিজয়–২৪ হল) প্রভোস্টের কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। পরে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের হস্তক্ষেপে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পরিস্থিতির অবসান হয়।


প্রভোস্টের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন মির্জা আজম হলের প্রভোস্টসহ কয়েকজন কর্মকর্তা। এ সময় একদল শিক্ষার্থী প্রভোস্টের কক্ষের বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন।

ঢালাও সিট বরাদ্দ না দেওয়ার প্রতিবাদেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।


যারা অবরুদ্ধ ছিলেন

তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকা কর্মকর্তারা হলেন—

  • প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমান

  • মির্জা আজম হলের প্রভোস্ট ড. মুহাম্মদ ফরহাদ আলী

  • সহকারী প্রক্টর ড. আব্দুস সাত্তার

  • হাউজ টিউটর মো. এনামুল হক

  • হাউজ টিউটর আতিকুর রহমান

  • হাউজ টিউটর তোজাম হোসেন

  • সেকশন অফিসার মোহাম্মদ হিজবুল্লাহ

তারা সবাই প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা কক্ষের ভেতরে অবরুদ্ধ ছিলেন।


সিট বরাদ্দ নিয়েই মূল বিরোধ

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতুন করে হলের সিট বরাদ্দের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে যারা হলে অবস্থান করছেন, তাদের কারোরই আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি সিট বরাদ্দের দিন নির্ধারণ করলেও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ জাতীয় নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে সিট বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি তোলে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আরেকটি শিক্ষার্থী গ্রুপ সোমবার রাতেই সিট বরাদ্দ দেওয়ার দাবিতে প্রভোস্টের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়।


‘আজই সিট বরাদ্দ চাই’—শিক্ষার্থীদের দাবি

ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ আহমেদ এবং ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী মাশরুর জামান মোল্লা বলেন,

“বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে সিট বরাদ্দ দিচ্ছি বলেও দিচ্ছে না। আজ আবার বলা হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের পর সিট বরাদ্দ হবে। তাই আমরা আজ রাতের মধ্যেই সিট বরাদ্দের দাবিতে তালা লাগিয়েছি। সিট বরাদ্দ না দেওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা বের হতে পারবেন না।”


উপাচার্য-উপ-উপাচার্যের হস্তক্ষেপে অবসান

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিষয়টি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের নজরে আসে। পরে তাদের সঙ্গে আলোচনার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তালা খুলে দেওয়া হয়।

এরপর শিক্ষক ও কর্মকর্তারা কক্ষ থেকে বের হয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।


প্রক্টরের প্রতিক্রিয়া

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমান বলেন,

“এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না। খুবই ক্লান্ত।”


ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হলের সিট বরাদ্দ নিয়ে শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *