দেশের সড়ক-মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অসংখ্য ফিটনেসবিহীন গাড়ি। চালাচ্ছেন অনেক অদক্ষ চালক। ফলাফল মর্মান্তিক। প্রতিদিন দুর্ঘটনায় প্রাণ যাচ্ছে মানুষের। বছর বছর ঘটা করে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন করা হচ্ছে কিন্তু সড়ক এখনো নিরাপদ নয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নীতিমালা অনুযায়ী মোটরযানের ফিটনেস সনদ প্রদানে ইঞ্জিন, রং, বডির কন্ডিশন, ধোঁয়া, হেডলাইট ও বিভিন্ন ধরনের সিগন্যাল লাইটসহ ৬১টি বিষয় দেখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বিআরটি-এর ঢাকার মেট্রো-সার্কেল-১ কার্যালয় ছাড়া দেশের কোথাও যথাযথ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যানবাহন পরীক্ষার সক্ষমতা নেই সংস্থাটির। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও দায়িত্বশীল নন। তারা দায়সারাভাবে গাড়ি পরীক্ষার মাধ্যমে ফিটনেস সনদ দেন। এই ছিদ্র গলে, রাজধানীতে গণপরিবহন হিসেবে সেবা দেওয়া অধিকাংশ বাসই মেয়াদোত্তীর্ণ। পুলিশের বিরুদ্ধেও অসাধুতার অভিযোগ পুরনো। ফিটনেস সনদ না থাকলেও ট্রাফিক পুলিশের কেস-স্লিপ দিয়ে অবাধে চলছে এসব বাস। গাড়ির মালিকরা পুলিশের সঙ্গে মাসিক চুক্তি করে এগুলো রাস্তায় চালিয়ে যাচ্ছেন বহাল তবিয়তে। দেখা যায়, গাড়ি রয়েছে কোনো থানায় জব্দ, অথচ ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে-এর মধ্যে।
এমন অরাজকতাই চলে আসছে মোটরযানের ফিটনেসের ক্ষেত্রে। বিরাজমান দূরাবস্থায় বলা যায় যে, এর সর্বাঙ্গে ঘা। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরীক্ষার সক্ষমতা নেই বিআরটি-এর। একমাত্র ডিজিটাল পরিদর্শন কেন্দ্রেরও অনেক স্ক্যানার নষ্ট। চোখের দেখায় মিনিটে ৩-৪টি গাড়ি পরীক্ষা করেন পরিদর্শকরা, যেখানে একটা গাড়ি পরীক্ষার জন্যই অন্তত ১৫ মিনিট লাগার কথা। শুধু কেস-স্লিপ দিয়ে রাজধানীতে চলছে কয়েক লাখ মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি। অনন্তকাল ধরে সড়কে এ ধরনের নৈরাজ্য চলতে পারে না। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারও নেই। দেশে অষ্টম বারের মতো জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয় সম্প্রতি। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ছাত্র-জনতার অঙ্গীকার, নিরাপদ সড়ক হোক সবার।’ অন্তর্বর্তী সরকার এখন রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, এখনই উপযুক্ত সময় পরিবহনেও শৃঙ্খলা এনে সড়ক নিরাপদ করার।
আউলিয়া বেগম আলো-সম্পাদক ও প্রকাশক