ইয়েমেনে সেনা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত বেড়ে ৫৮ হতাহত প্রায় ২৬০ জন; ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইয়েমেন সরকারের, হামলাকে ‘বৈধ’ দাবি হুতিদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০০ জন। দেশটির স্থানীয় প্রশাসন ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গতকাল সোমবার সকালে শাবওয়া প্রদেশের ‘আল-আলম’ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যখন নতুন নিয়োগ পাওয়া সেনাসদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছিল, ঠিক তখনই এই হামলা চালানো হয়। প্রথমে নিহতের সংখ্যা ১৮ জন বলা হলেও, পরবর্তীতে গুরুতর আহতদের মৃত্যুর কারণে এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
ইয়েমেন সরকারের হুঁশিয়ারি
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশেদ আল-আলিমি নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, হতাহতরা সবাই নতুন নিয়োগ পাওয়া তরুণ সেনাসদস্য ছিলেন। এই বর্বরোচিত হামলার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “নতুন নিয়োগ পাওয়া সেনাদের এভাবে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে এটাই স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, রাজনৈতিক ও সামরিক চাপে পড়লে হুতি মিলিশিয়ারা সন্ত্রাসী হামলার পথ বেছে নেয়।”
কী বলছে হুতিরা?
সানা থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বরাত দিয়ে জানা গেছে, হুতি বিদ্রোহীরা ইতিমধ্যেই এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে এই হামলাকে সম্পূর্ণ ‘বৈধ’ বলে দাবি করেছেন।
হুতিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল সৌদি আরব-সমর্থিত একটি সামরিক ঘাঁটি, যেখানে রিয়াদের প্রত্যক্ষ সমর্থনে পুষ্ট সরকারি বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যেখানেই সৌদি আরব-সমর্থিত সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকবে, সেখানেই হামলা চালানোকে হুতিদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।”
নেপথ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত
ইয়েমেনের একটি বড় অংশ এখন হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপসারিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সেনাবাহিনী সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সহায়তায় সেসব এলাকা পুনরুদ্ধারে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় সৌদি আরবের ওপর হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার পর ইয়েমেনের অভ্যন্তরেও এই সংঘাত নতুন মাত্রা রূপ নিয়েছে। এই হামলার ঠিক আগেই ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী তাইজ শহরের দক্ষিণে হুতিদের অবস্থান, যুদ্ধযান ও অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল। রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতের জেরে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ তীব্র জ্বালানি সংকট ও নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।