ইসরায়েলের নির্বাচনে কঠিন পরীক্ষায় নেতানিয়াহু, ক্ষমতা হারানোর শঙ্কা

জনমত জরিপে এগিয়ে আইজেনকট, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা | সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে বাড়তে পারে রাজনৈতিক সংকট

ডেস্ক রিপোর্ট

ইসরায়েলের রাজনীতিতে আবারও বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সামনে এবার কঠিন চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনে তাঁর ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই যেমন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তেমনি বিরোধী শিবিরের শক্তি বৃদ্ধি এবং নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা এবারের নির্বাচনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের প্রতি সমর্থনও বেড়েছে বলে জরিপে উঠে এসেছে। তবে এই সমর্থন শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, কোনো দল বা জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে ভোটের পরও ইসরায়েলে রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। নির্বাচনের ফলাফল যদি কোনো পক্ষকে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না দেয়, তাহলে নতুন সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন দলের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা ও সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর অবস্থানও সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক শাসনের অবসান ঘটানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে বিরোধী দলগুলো যদি এককভাবে কিংবা জোটবদ্ধ হয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারে, তাহলে নেতানিয়াহুর আবারও ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ থেকে যেতে পারে।

গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন এবং গত চার বছর ধরে কট্টর ডানপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে জোট করে সরকার পরিচালনা—সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন নেতানিয়াহুর জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিচারব্যবস্থার সংস্কার, সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ এবং সরকারের কট্টর ডানপন্থি নীতির মতো বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে নেতানিয়াহুকে পুরোপুরি রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া নেতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নিজস্ব সমর্থকগোষ্ঠী এবং ডানপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের কারণে এখনো তাঁর ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচনের ফল নির্ধারণে ভোটের হিসাবের পাশাপাশি সরকার গঠনের কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

জরিপে পিছিয়ে নেতানিয়াহু

নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর জন্য স্বস্তিদায়ক চিত্র পাওয়া যায়নি। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর থেকে তাঁর জনসমর্থন কমেছে বলে জরিপের ফলাফলে ইঙ্গিত মিলেছে। এতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন অর্জন করা তাঁর জন্য কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ নিউজের ১৮ অক্টোবরের ঘোষণার পরদিন পরিচালিত একটি জরিপে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গাদি আইজেনকটের প্রতি সমর্থন ছিল ৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানান ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা। অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে বেশি পছন্দ করেন—এমন প্রশ্নে ওই জরিপে আইজেনকট নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে ছিলেন।

একই জরিপে পার্লামেন্টের আসনসংখ্যা নিয়েও নেতানিয়াহুর জন্য উদ্বেগজনক পূর্বাভাস দেওয়া হয়। জরিপ অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি আগের পার্লামেন্টে থাকা ৩২টি আসন থেকে কমে ২১টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২৪টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

এই হিসাব সঠিক হলে, নির্বাচনে লিকুদ পার্টির অবস্থান দুর্বল হতে পারে এবং সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহুকে আরও বেশি জোটসঙ্গীর ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। তবে জনমত জরিপ কখনোই চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল নয়। ভোটারদের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত, ভোটদানের হার এবং নির্বাচনী সমঝোতার মতো বিষয় ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

এ কারণে শুধু জরিপের ভিত্তিতে নেতানিয়াহুর পরাজয় নিশ্চিত বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকেরা। বরং নির্বাচনের ফলাফলের পাশাপাশি কোন দল কার সঙ্গে জোট গঠন করবে, সেটিই শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ইসরায়েলের সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকার গঠনের জন্য শুধু সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া যথেষ্ট নয়। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করাও জরুরি। কোনো দল এককভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে অন্য দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করতে হয়। ফলে নির্বাচনে তুলনামূলক কম আসন পেয়েও কোনো দল জোটের মাধ্যমে সরকার গঠনের সুযোগ পেতে পারে।

এই বাস্তবতা নেতানিয়াহুর জন্য একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে তেমনি সম্ভাবনাও তৈরি করছে। তাঁর দল আসন হারালেও ডানপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলো একসঙ্গে থাকলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। বিপরীতে বিরোধী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় ফেরার পথ কঠিন হয়ে উঠবে।

নেতানিয়াহুর পক্ষে এখনো শক্তিশালী সমর্থকগোষ্ঠী

জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত থাকলেও তাঁর রাজনৈতিক ভিত্তি এখনো পুরোপুরি দুর্বল হয়ে যায়নি। ইসরায়েলের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সমর্থকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং আদর্শিকভাবে কাছাকাছি দলগুলোর সহযোগিতা তাঁকে এখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকিয়ে রেখেছে।

জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো গিডিওন রাহাতের মতে, নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার পেছনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সমর্থকগোষ্ঠী কাজ করছে।

প্রথমত, অতি-ধর্মীয় গোষ্ঠী, যাদের একটি বড় দাবি হলো বাধ্যতামূলক সামরিক চাকরি থেকে অব্যাহতি বজায় রাখা। দ্বিতীয়ত, কট্টর ডানপন্থিরা, যারা ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার পক্ষে। তৃতীয়ত, নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত সমর্থকেরা, যারা দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে দেশের নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন।

রাহাতের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি। তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এসব সমর্থকের একটি অংশ নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করতে আগ্রহী নয়।

রাহাত আরও মনে করেন, নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন, যাতে তাঁর সমর্থকদের একটি অংশ মনে করে, ইসরায়েল পরিচালনার জন্য তিনিই সবচেয়ে যোগ্য নেতা। তাঁর ব্যক্তিগত নেতৃত্বের প্রতি এই আস্থা নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও টিকে থাকতে সাহায্য করেছে।

এমনকি সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও তাঁর সমর্থকদের একটি অংশ মনে করে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কাজ করছে। তাঁদের মধ্যে এমন ধারণাও রয়েছে যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য শুধু প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করা যায় না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণে নিরাপত্তা সংকট বা সরকারের নীতির সমালোচনা সব সময় নেতানিয়াহুর ভোটব্যাংকে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে না। ভোটারদের একটি অংশের কাছে রাজনৈতিক পরিচয়, আদর্শ এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাস অনেক সময় সরকারের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তবে এই সমর্থকগোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করে নেতানিয়াহু শেষ পর্যন্ত সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। কারণ, তাঁর দল প্রত্যাশার চেয়ে কম আসন পেলে জোটসঙ্গীদের সঙ্গে দর-কষাকষিতে তাঁর অবস্থান দুর্বল হতে পারে।

কট্টর ডানপন্থি নীতি নিয়ে অসন্তোষ

গত চার বছরে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থি ও ধর্মীয় জোটের বিভিন্ন নীতি নিয়ে ইসরায়েলের নাগরিকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিচারব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ, সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের প্রশ্ন এবং কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রীদের নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে।

বিচারব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগকে বিরোধী দল ও সমালোচকদের অনেকে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এ ধরনের সংস্কারের ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সরকারের ক্ষমতার ওপর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, সামরিক বাহিনীতে জনবলের প্রয়োজন বাড়লেও অতি-ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যদের বাধ্যতামূলক সামরিক চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রশ্নে সরকারকে জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সেনাবাহিনীতে জনবল নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হলেও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর ছাড় বজায় রাখার প্রশ্নে রাজনৈতিক মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।

এই বিরোধ নেতানিয়াহুর জোটের ভেতরেও চাপ সৃষ্টি করেছে। কারণ, একদিকে সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা ও জনমতের চাপ রয়েছে, অন্যদিকে সরকার টিকিয়ে রাখতে অতি-ধর্মীয় দলগুলোর সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচের মতো কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রীরা নিজেদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের নীতি ও বক্তব্য ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘাত এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের ভবিষ্যৎ নিয়েও বিতর্ক বাড়িয়েছে।

বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন রাইনহোল্ডের মতে, নেতানিয়াহু আবারও ক্ষমতায় ফিরলে এসব সমস্যা আরও গভীর হতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, বর্তমান নীতিগুলো অব্যাহত থাকলে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে।

রাইনহোল্ড মনে করেন, ইসরায়েলের ইতিহাসে নেতানিয়াহু অত্যন্ত দক্ষ রাজনীতিকদের একজন। প্রতিদ্বন্দ্বীদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা এবং নিজের ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ দক্ষতা দেখিয়েছেন। তবে সেই রাজনৈতিক দক্ষতা বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করছে।

৭ অক্টোবরের হামলা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার প্রশ্ন

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও গোয়েন্দা কার্যক্রম নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে। হামলার আগে কীভাবে এত বড় আক্রমণের প্রস্তুতি শনাক্ত করা যায়নি এবং কেন প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি, তা নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।

এই হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সংঘাতের প্রভাব লেবাননসহ বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং ইরানকে ঘিরেও সামরিক উত্তেজনা বাড়ে। এসব ঘটনার ফলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা, সামরিক কৌশল এবং সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।

নেতানিয়াহুর সমালোচকদের মতে, ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার রাজনৈতিক দায় তাঁর এড়ানো উচিত নয়। তাঁদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পরও কেন তাঁর সরকার এমন একটি হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হলো?

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সমর্থকদের একটি অংশ মনে করে, নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য শুধু প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করা যথাযথ নয়। তাঁদের মতে, সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও তদন্ত ও মূল্যায়নের আওতায় আনা প্রয়োজন।

এই বিতর্ক নির্বাচনী রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, নিরাপত্তা ইসরায়েলের ভোটারদের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। একদিকে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে, অন্যদিকে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নও বাড়ছে।

নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্যের দাবি করে এলেও সমালোচকেরা বলছেন, নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে জবাবদিহি প্রয়োজন। ফলে এবারের নির্বাচনে শুধু অর্থনীতি বা দলীয় রাজনীতি নয়, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতাও বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্পের সমর্থনেও বাড়েনি নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর নির্বাচনী অবস্থানকে শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হলেও জরিপে তার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়নি। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ নিউজের জরিপে এ বিষয়ে ভোটারদের মনোভাব উঠে এসেছে।

জরিপ অনুযায়ী, ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ট্রাম্পের সমর্থন তাঁদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনবে না। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সমর্থন থাকলেও তাঁদের পছন্দের প্রার্থী বা দল নির্ধারণে তা বড় ভূমিকা রাখছে না।

অন্যদিকে, ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সমর্থনের কারণে নেতানিয়াহুকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা তাঁদের কমেছে। বিপরীতে ১২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ট্রাম্পের সমর্থন তাঁদের লিকুদ পার্টিকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় করেছে।

এই ফলাফল থেকে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো নেতার সমর্থন পেলেই তা সরাসরি নির্বাচনী জনপ্রিয়তায় রূপ নেয় না। ভোটাররা নিজেদের দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি, সরকারের নীতি এবং নেতৃত্বের কার্যকারিতার মতো বিষয়ও বিবেচনা করেন।

নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তির একটি অংশ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্কের ইতিবাচক প্রভাব কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ভোটারদের সিদ্ধান্তে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। নিরাপত্তা ব্যর্থতা, বিচারব্যবস্থার সংস্কার, সামরিক নিয়োগ নিয়ে বিরোধ এবং জোট সরকারের নীতির কারণে তৈরি হওয়া অসন্তোষ নেতানিয়াহুর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

বিরোধী শিবিরের সামনে ঐক্যের পরীক্ষা

নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও বিরোধী দলগুলো সেই অসন্তোষকে কতটা কার্যকর রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, শুধু সরকারবিরোধী মনোভাব থাকলেই ক্ষমতার পরিবর্তন নিশ্চিত হয় না। সরকার গঠনের জন্য বিরোধীদের মধ্যে সমন্বয় এবং পারস্পরিক সমঝোতাও প্রয়োজন।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উদি সোমারের মতে, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকাংশে বিরোধী দলগুলোর সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে। বিরোধীরা যদি নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে পারে এবং সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে ক্ষমতার পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে বিরোধী শিবিরেও নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রতিযোগিতা রয়েছে। সোমার ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য শুধু নেতানিয়াহুকে নয়, বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েও সমালোচনা করেছেন।

তাঁর মতে, বিরোধী নেতাদেরও নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ফলে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জনমনে অসন্তোষ থাকলেও বিরোধীরা তার পুরো সুফল পাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

সোমারের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, একসময় পার্লামেন্টে ২৪টি আসন থাকা লাপিদের দল এবার মাত্র দুটি আসন পেতে পারে বলে জরিপে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই পূর্বাভাস সঠিক হলে বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব ও আসনভিত্তিক শক্তির হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে।

এ অবস্থায় গাদি আইজেনকটের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রতি তুলনামূলক বেশি সমর্থন এবং তাঁর দলের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তবে আইজেনকটের দল অন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কীভাবে কাজ করবে, সেটিও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জরিপগুলোতে কোনো দল বা জোট প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে ভোটের পর ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইসরায়েলের সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকার গঠনের জন্য দলগুলোকে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিশ্চিত করতে হয়। কোনো দল এককভাবে সেই সমর্থন না পেলে অন্য দলের সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনা শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক মতাদর্শ, নীতিগত অবস্থান এবং মন্ত্রিসভায় অংশীদারত্বের মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বৃহত্তম দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে দুই পক্ষের রাজনৈতিক অবস্থান, জোটসঙ্গী এবং নীতিগত অগ্রাধিকারের মধ্যে পার্থক্য থাকায় এমন সমঝোতা কতটা বাস্তবসম্মত হবে, তা স্পষ্ট নয়।

আরেকটি সম্ভাবনা হলো, কোনো পক্ষই সরকার গঠনে সফল না হলে আবারও নির্বাচন আয়োজন করতে হতে পারে। প্রতিবেদনে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে। বারবার নির্বাচন হলে সরকার পরিচালনা, নীতি বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সরকার গঠন নিয়ে অস্থিরতার কারণে ইসরায়েলে চার দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২১ সালে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন জোট নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। ফলে দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে জোটের হিসাব ও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা নতুন ঘটনা নয়।

এই অভিজ্ঞতা এবারের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। ভোটের ফলাফলে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ছোট দলগুলোর সমর্থনও বড় রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।

দুর্নীতির বিচার ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি

নেতানিয়াহুর সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো দুর্নীতির অভিযোগে চলমান বিচার এবং তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ। এসব বিষয় তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নেতানিয়াহু একদিকে নিজেকে নিরাপত্তা ও কূটনীতিতে অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে তুলে ধরেন। অন্যদিকে সমালোচকেরা তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা, সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জোটসঙ্গীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ তুলছেন।

বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলোর সমর্থন ধরে রাখতে গিয়ে সরকার বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে আপস করেছে বলে সমালোচনা রয়েছে। এর ফলে দেশের বৃহত্তর স্বার্থের তুলনায় জোটের স্থায়িত্বকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থান, যুদ্ধের কারণে দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর চাপ এবং সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এসব বিষয় নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের মূল্যায়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা মোকাবিলার প্রসঙ্গেও নেতানিয়াহু আলোচনায় এসেছেন। তবে এসব বিষয়ে তাঁর প্রস্তাব বা উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তব পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট নীতির ফলাফলের ওপর।

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তাই শুধু নির্বাচনে কতটি আসন পেলেন, তার ওপর নির্ভর করছে না। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং জোটসঙ্গীদের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছু মিলিয়েই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারিত হবে।

শেষ পর্যন্ত কোন পথে ইসরায়েলের রাজনীতি?

সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন ইসরায়েলের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ তৈরি করেছে। নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকলেও এখন তাঁকে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা, নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে বিতর্ক, কট্টর ডানপন্থি নীতি নিয়ে অসন্তোষ এবং দুর্নীতির বিচার—সবকিছু তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিলেও বিরোধী দলগুলোর সামনে বড় পরীক্ষা রয়েছে। নির্বাচনে ভালো ফল করাই যথেষ্ট হবে না; সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন ও রাজনৈতিক সমঝোতা নিশ্চিত করতে হবে।

ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর অবস্থানও কিছু পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে কোন দল বা জোট শেষ পর্যন্ত সরকার গঠন করতে পারবে, তা নির্বাচনের প্রকৃত ফল এবং পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনার ওপর নির্ভর করবে।

নেতানিয়াহু আবারও ক্ষমতায় ফিরলে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতিগুলো অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা থাকবে। আর বিরোধীরা সরকার গঠন করতে পারলে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা, নিরাপত্তানীতি এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সামনে আসতে পারে। তবে নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেই সব নীতিতে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নিজস্ব সমর্থকগোষ্ঠীর ওপর ভর করে নেতানিয়াহু কি আবারও ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন, নাকি ভোটারদের অসন্তোষ তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন মোড় আনবে?

এই প্রশ্নের উত্তর নির্ধারণ করবে নির্বাচনের ফলাফল, দলগুলোর আসনসংখ্যা এবং সরকার গঠনের পরবর্তী সমীকরণ। ফলে এবারের নির্বাচন শুধু নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য নয়, ইসরায়েলের আগামী দিনের শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক গতিপথের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।