দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে: রিজভী
ডেস্ক রিপোর্ট
একটি নির্বাচিত সরকারকে চাপে ফেলতে এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে ‘পতিত দোসররা’ বিভিন্ন ধরনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোথাও নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনা ঘটছে কি না, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (আজ) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।
কর্মসূচিতে তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারকে বিপাকে ফেলতে বিভিন্ন মহল নানা ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে। এসব তৎপরতার ব্যাপারে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।
‘নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার জন্য যারা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে যথাযথ তদন্ত দরকার।
তিনি বলেন, কোনো সরকার বা রাষ্ট্রের জন্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কাম্য নয়। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা সরকারের দায়িত্ব। এ কারণে যারা নাশকতা বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
রিজভীর ভাষ্য, দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক—এটি সরকার চায় না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। কোনো ধরনের নৈরাজ্য, অপরাধ বা বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
পুলিশের ভ্যান থেকে সন্ত্রাসী পালানোর ঘটনায় প্রশ্ন
সম্প্রতি পুলিশের একটি ভ্যান থেকে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর পালিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রুহুল কবির রিজভী।
এ ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, পুলিশের ভ্যান থেকে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী কীভাবে পালিয়ে যেতে পারে? একজন আসামি বা সন্ত্রাসী পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় পালিয়ে গেলে এর পেছনে কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করতে হবে। তদন্তে যদি কারও গাফিলতি বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদেরও আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।
রিজভীর মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা কোনো আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা সাধারণভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনায় প্রকৃত কারণ বের করা জরুরি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব
রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধেও সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু শুধু সরকারের একার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ রোগ প্রতিরোধে সরকার, সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সাধারণ মানুষ—সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
রিজভী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আগে থেকেই সচেতন হওয়া। বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষ করে বৃষ্টির পর বিভিন্ন পাত্র, টব, পরিত্যক্ত জিনিস কিংবা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
তার ভাষায়, আগে থেকে সতর্ক হওয়া গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এজন্য শুধু আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়ার দিকে গুরুত্ব না দিয়ে রোগ প্রতিরোধে আগে থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান
ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ি, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের এলাকায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না—এমন সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন রিজভী।
তিনি বলেন, প্রত্যেক পরিবারকে নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থল খুঁজে বের করে তা ধ্বংস করতে হবে।
রিজভী বলেন, একটি বাড়ি পরিষ্কার রাখলেই হবে না। আশপাশের বাড়ি, রাস্তার পাশ, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ কিংবা খোলা জায়গায় পানি জমে আছে কি না, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
তিনি সবাইকে নিজেদের জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করার কথা তুলে ধরেন রিজভী
ডেঙ্গু পরীক্ষার বিষয়েও বক্তব্য দেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, আগে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হতো। এখন তা বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে সাধারণ মানুষ সহজে পরীক্ষা করাতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রিজভী বলেন, জ্বরসহ ডেঙ্গুর বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, রোগের বিস্তার তত বেশি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান
দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, একদিকে যেমন ডেঙ্গুর মতো রোগ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে, অন্যদিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, একটি সরকারকে চাপে ফেলার জন্য কেউ যেন নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিতে না পারে, সেদিকে সবার নজর রাখতে হবে। কোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
রিজভী আরও বলেন, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকদেরও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
পুলিশের ভ্যান থেকে সন্ত্রাসী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আবারও তদন্তের দাবি জানান রিজভী।
তিনি বলেন, ঘটনার পেছনে কী কারণ ছিল, দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না এবং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সহযোগিতা করেছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা দরকার।
তিনি বলেন, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের পালিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
রিজভী বলেন, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। কেউ অপরাধ করলে তার রাজনৈতিক পরিচয় বা অন্য কোনো পরিচয়ের কারণে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। তদন্তের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
জনগণের সরকার বলে দাবি
রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারেক রহমানের সরকার জনগণের সরকার। জনগণের নিরাপত্তা, শান্তি এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার কোনো ধরনের নৈরাজ্য বা অপরাধকে প্রশ্রয় দেবে না। দেশের মানুষের জানমাল রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায়। তাই কোনো পক্ষ যাতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ে আবারও সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন রিজভী।
তিনি বলেন, শুধু মশা নিধন কার্যক্রম চালালেই ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
তার মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিটি পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একটি পরিবার যদি নিয়মিত নিজের বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখে এবং পানি জমতে না দেয়, তাহলে এডিস মশার বংশবিস্তার কমানো সম্ভব।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও প্রয়োজন। সবাই সচেতনভাবে কাজ করলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা ও নোংরা পানি দ্রুত পরিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছেন। ডেঙ্গু যাতে বাসাবাড়িতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাসার ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র কিংবা অন্য কোনো জায়গায় পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। পানি জমে থাকলে দ্রুত তা সরিয়ে ফেলতে হবে।
রিজভীর বক্তব্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণ করা সেই উদ্যোগের অন্যতম অংশ।
সচেতনতার বিকল্প নেই
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা আগে নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তার বক্তব্য, ডেঙ্গুর মৌসুমে প্রত্যেক নাগরিককে নিজের পরিবার ও আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর বা ডেঙ্গুর মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
তিনি বলেন, সচেতনতা তৈরি হলে একদিকে যেমন ডেঙ্গুর প্রজননস্থল কমানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়ার ঝুঁকিও কমবে।
শান্তি ও জননিরাপত্তার ওপর জোর
শাহবাগের কর্মসূচিতে রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধ—দুই বিষয়ই গুরুত্ব পায়।
তিনি একদিকে সম্ভাব্য নাশকতা ও অস্থিতিশীলতার বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। অন্যদিকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন।
রিজভী বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য রক্ষাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এজন্য সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে জনগণের অংশগ্রহণও প্রয়োজন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হবে।
কর্মসূচিতে সচেতনতার বার্তা
শাহবাগে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে রোগ প্রতিরোধের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কর্মসূচিতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং নিজেদের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়।
রিজভী বলেন, শুধু সরকারি কর্মসূচির ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রত্যেক নাগরিককে নিজের জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাড়ির ভেতর ও বাইরে কোথাও পানি জমে থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো গেলে রোগের বিস্তার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
সতর্ক থাকার আহ্বান
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় রিজভী আবারও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তার অভিযোগ, নির্বাচিত সরকারকে বিপাকে ফেলতে এবং দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে ‘পতিত দোসররা’ বিভিন্ন ধরনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব তৎপরতার ব্যাপারে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যেকোনো নাশকতা বা অপরাধের ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে।
পুলিশের ভ্যান থেকে সন্ত্রাসী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায়ও তিনি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানান। তার মতে, যারা এ ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
শেষ কথা
ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—দুই ক্ষেত্রেই সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী।
তিনি একদিকে সম্ভাব্য নাশকতা ও অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
রিজভীর বক্তব্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
একইভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধ ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শাহবাগের কর্মসূচিতে রিজভী বলেন, দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
