সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও শিশু একাডেমির কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

বশেষ প্রতিবেদক

সমাজের কোনো শিশুই যেন সুযোগ-সুবিধা থেকে পিছিয়ে না থাকে, সে লক্ষ্যেই শিশু একাডেমির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেছেন, শুধু সুবিধাপ্রাপ্ত বা শহরকেন্দ্রিক শিশুরাই নয়, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শিশুদেরও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির বিভিন্ন কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির পার্থক্য না করে সব শিশুর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। সেই বাংলাদেশ গড়ার জন্য শিশুদের শারীরিক, মানসিক, সৃজনশীল ও নৈতিক বিকাশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ‘শিশু অধিকার দিবস ২০২৬’ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘শিশুর স্বপ্নে পঞ্চাশ বছর: অর্জন, অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’।

সব শিশুর জন্য সমান সুযোগ

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, শিশুদের বিকাশের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের মধ্যে সুযোগের পার্থক্য কমিয়ে আনতে হবে। অনেক শিশু প্রতিভাবান হলেও প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশের অভাবে তাদের প্রতিভা বিকশিত হয় না।

এ কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং তৃণমূল পর্যায়ের শিশুদের কাছেও শিশু একাডেমির কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে বড় হচ্ছে। তাদের অনেকের পড়াশোনা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বা নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। শিশু একাডেমির কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব শিশুকে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শুধু তার পরিবারের আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে—এমন বাংলাদেশ আমরা চাই না। প্রতিটি শিশুকে তার মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

প্রতিটি উপজেলায় শিশু একাডেমির কার্যক্রম

তৃণমূল পর্যায়ে শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে শিশু একাডেমির কার্যক্রম ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, শিশুদের জন্য রাজধানীকেন্দ্রিক কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। দেশের প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরাও যেন সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।

তার মতে, প্রতিটি উপজেলায় শিশুদের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে তারা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, গান, নাচ, কবিতা আবৃত্তি ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

মন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে শিশুদের নিয়ে কাজ করা হলে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে। একই সঙ্গে তাদের নেতৃত্বের গুণাবলি, সৃজনশীলতা ও সামাজিক মূল্যবোধও বিকশিত হবে।

তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে শিশু একাডেমির কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ নয় শিশুর বিকাশ

শিশুদের কেবল বইয়ের পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

তিনি বলেন, একজন শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য শিক্ষা যেমন প্রয়োজন, তেমনি খেলাধুলা, সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশুদের পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে। এতে তাদের চিন্তার জগৎ আরও বিস্তৃত হবে এবং তারা নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পাবে।

মন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুর শারীরিক সক্ষমতা বাড়ে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তৈরি হয় আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা। আবার নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ শিশুকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

‘নতুন কুঁড়ি’ ও ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’

শিশুদের বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী।

তিনি জানান, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আওতায় ১৪টি ক্রীড়া ইভেন্ট রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশব্যাপী শিশুদের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করার বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও শিশু একাডেমির কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

র পছন্দের ক্ষেত্র বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, শিশুরা যেন শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা ভালো নম্বর পাওয়ার প্রতিযোগিতায় আটকে না যায়। তাদের আনন্দের সঙ্গে শেখার এবং নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করার সুযোগ দিতে হবে।

শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান

অনুষ্ঠানে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপত্তা এবং সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে সেই দেশের শিশুরা কীভাবে বেড়ে উঠছে তার ওপর। তাই শিশুদের প্রতি রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, শিশুরা যেন কোনো ধরনের বৈষম্য, নির্যাতন বা অবহেলার শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থাও জোরদার করা প্রয়োজন।

জাতিসংঘের উদ্যোগের আগেই শিশুদের নিয়ে কাজ

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ইতিহাস তুলে ধরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, শিশুদের কল্যাণে দেশে অনেক আগেই বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে শিশুদের অধিকার নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাবনা ও উদ্যোগ গ্রহণের অনেক আগেই ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শিশুদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

তিনি শিশু একাডেমির দীর্ঘ পথচলার কথা উল্লেখ করে বলেন, পাঁচ দশকে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, শিশু একাডেমির ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামী দিনের জন্য নতুন কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের ভাবনা

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি করতে হলে এখন থেকেই পরিকল্পনা নিতে হবে।

শিশুদের শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। তারা যাতে জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে বড় হতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে আজকের শিশুরাই। তাই তাদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এ জন্য শিশুদের শিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নৈতিকতা, দেশপ্রেম, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যা বললেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেবে। তারাই বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

তাই শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, শিশুদের শুধু ভালো শিক্ষার্থী হলেই হবে না। তাদের ভালো মানুষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।

তিনি শিশুদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও মূল্যবোধ অনুসরণ করে শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

শিশুদের জন্য পরিবারকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান।

তিনি বলেন, শিশুদের সুরক্ষা ও বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও শিশুদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার দ্বার খুলে দিয়েছে।

তবে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করে তিনি শিশুদের পরিবার ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

সেলিমা রহমান বলেন, শিশুদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করলে হবে না। তাদের মানবিক গুণাবলি, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে।

তিনি বলেন, শিশুর চরিত্র গঠনের প্রথম জায়গা হলো পরিবার। তাই বাবা-মা ও অভিভাবকদের শিশুদের সঙ্গে সময় দিতে হবে এবং তাদের ভালো-মন্দ বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

শিশু একাডেমির কার্যক্রম আরও বাড়ানোর আহ্বান

সেলিমা রহমান শিশু একাডেমির কার্যক্রম দেশের আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, রাজধানী বা বড় শহরের শিশুদের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদেরও সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকা দরকার।

বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিশু একাডেমির কার্যক্রম আরও সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তার মতে, সমাজের সব শ্রেণির শিশুকে একই সুযোগের আওতায় আনা গেলে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলার পথ আরও সহজ হবে।

শিশুশ্রম বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি

সেমিনারের মুক্ত আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা শিশুদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেন।

তারা শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিশুদের অপুষ্টি দূর করা, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং তাদের নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেন।

বক্তারা বলেন, শিশুশ্রমের কারণে অনেক শিশু স্কুল থেকে ঝরে পড়ে। তাদের শৈশব নষ্ট হয় এবং ভবিষ্যতে দক্ষ ও শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ কমে যায়।

তাই দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ও শিক্ষা সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বাল্যবিয়ে ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ

আলোচনায় বাল্যবিয়ে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

বক্তারা বলেন, শুধু আইন করে বাল্যবিয়ে বা শিশু নির্যাতন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

অভিভাবকদের সচেতন করার পাশাপাশি শিশুদেরও তাদের অধিকার সম্পর্কে জানাতে হবে।

শিশুরা যেন কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হলে সহজে বিষয়টি জানাতে পারে, সে জন্য নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

শিশুস্বাস্থ্য ও পুষ্টিতে গুরুত্ব

মুক্ত আলোচনায় শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিয়েও আলোচনা হয়।

বক্তারা বলেন, একটি শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য পুষ্টিকর খাবার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ দরকার।

বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের অপুষ্টি দূর করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন বলে মত দেন তারা।

শিশুদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

‘সার্ক শিশু সম্মেলন’ আয়োজনের প্রস্তাব

সেমিনারে শিশুদের সার্বিক কল্যাণে একটি ‘সার্ক শিশু সম্মেলন’ আয়োজনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

বক্তারা মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর শিশুদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করা প্রয়োজন।

এ ধরনের সম্মেলনের মাধ্যমে শিশু অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপত্তা ও সৃজনশীল বিকাশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

৫০ বছরের পথচলা

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রতিষ্ঠানটির ৫০ বছরের পথচলা নিয়েও আলোচনা হয়।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘ এই সময়ে শিশু একাডেমি দেশের শিশুদের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল বিকাশে ভূমিকা রেখেছে।

আগামী দিনে নতুন প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিশু একাডেমির কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের শিশুদের মধ্যে সুযোগের ব্যবধান কমিয়ে আনতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম তৃণমূল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে যারা ছিলেন

সেমিনারে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছাঃ আরজু আরা বেগম।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির বোর্ড সদস্য, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন জেলার শিশু একাডেমির শিশুরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

শিশুদের নিয়েই আগামীর বাংলাদেশ

সেমিনারে বক্তাদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে—আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের চালিকাশক্তি।

তাই তাদের বেড়ে ওঠার জন্য নিরাপদ, আনন্দময় ও সৃজনশীল পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে।

বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের কোনো শিশ পার্থক্য ভুলে সব শিশুর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। কারণ একটি শিশুর প্রতিভা ও সম্ভাবনা তার আর্থিক বা সামাজিক পরিচয়ের ওপর নিরমন প্রত্যাশাই উঠে আসেুকেই সুযোগের বাইরে রাখা হবে না। শিশু একাডেমির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও এর আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির পার্থক্য ভুলে সব শিশুর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। কারণ একটি শিশুর প্রতিভা ও সম্ভাবনা তার আর্থিক বা সামাজিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে না।

শিশুদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখে শিশু একাডেমির আগামী দিনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশাই উঠে আসে সুবর্ণজয়ন্তীর এই আয়োজনে।