রেলওয়ের বহরে যুক্ত হচ্ছে ৮০ নতুন লোকোমোটিভ, অনুমোদন পেয়েছে ৩০টির প্রস্তাব

ডেস্ক রিপোর্ট

দেশের রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন করে ৮০টি লোকোমোটিভ (রেলইঞ্জিন) সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৩০টি লোকোমোটিভ কেনার প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে। বাকি লোকোমোটিভ সংগ্রহের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার বিকেলে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিধি অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অনুমোদিত লোকোমোটিভগুলো কেনা হবে। তবে এসব লোকোমোটিভ দেশে পৌঁছাতে আরও দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগতে পারে।

রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন ইঞ্জিন সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা গেলে রেলওয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।

রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়ানোই লক্ষ্য

দেশের রেল যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের কার্যক্রম সচল রাখা, যাত্রী পরিবহন বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নয়নে ইঞ্জিনের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তবে নতুন লোকোমোটিভ কেনার প্রক্রিয়া শেষ করে সেগুলো দেশে আনতে সময় লাগবে। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ৩০টি লোকোমোটিভ দেশে পৌঁছাতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে।

আগের উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন

রেলওয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিগত সরকারের ১৮ বছরের ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরেন রেলমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ওই সময়ে রেল খাতে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন হয়নি।

শেখ রবিউল আলম বলেন, অপচয়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও লুটপাটের কারণে রেলওয়ের যে অগ্রগতি হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রেলওয়ে পিছিয়ে পড়েছে, আবার কোথাও কোথাও রেলসম্পদ নষ্ট হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে রেলসেবার মানে যে পরিবর্তন আসার কথা ছিল, তা হয়নি। গত ১৮ বছরে রেলওয়ে বিভাগের যথাযথ তদারকিরও অভাব ছিল।

বর্তমান সরকার এ অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, রেলওয়ের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং যাত্রীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় লাগবে।

রেলসেবার মান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সক্রিয় রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

রেলসেবাকে আরও জনবান্ধব করার পরিকল্পনা

রেল যোগাযোগকে যাত্রীদের জন্য আরও সহজ ও সুবিধাজনক করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে রেলওয়ে বিভাগকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেলভিত্তিক যাত্রী পরিবহন সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে রেল যোগাযোগের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

উত্তরবঙ্গের মানুষের যাতায়াতের সুবিধা বাড়ানো এবং রেল যোগাযোগের সুযোগ আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জন্য রেলভ্রমণ আরও সহজ করা সম্ভব হবে।

ঢাকার আশপাশের যাত্রীদের জন্য বাড়তি সুবিধার উদ্যোগ

ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করেন—এমন যাত্রীদের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান রেলমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে সকালে রাজধানীতে এসে রাতে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার যাত্রীরা উপকৃত হতে পারেন।

এ ধরনের যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে রেলসেবার সময়সূচি, ট্রেনের প্রাপ্যতা এবং যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

সরকারের লক্ষ্য, রেলসেবার মান উন্নত করে যাত্রীদের কাছে রেলকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা। যাতায়াত সহজ হলে সড়কপথের ওপর চাপ কমানোর ক্ষেত্রেও রেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রেলওয়ের উন্নয়নে প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন

রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে শুধু নতুন ইঞ্জিন কেনাই যথেষ্ট নয়; সেগুলোর কার্যকর ব্যবহার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, প্রকল্পের যথাসময়ে বাস্তবায়ন এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নও জরুরি।

মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের পাশাপাশি রেলওয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে করা যায়, তার ওপর রেলসেবার উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভর করবে।

পার্বতীপুরের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলামসহ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহ, রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেবার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। এখন এসব পরিকল্পনা যথাসময়ে বাস্তবায়ন করাই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

image_print
Spread the love
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted