অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা ডেস্ক ।। অনলাইন সংস্করণ
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ঢাকা: মাদক, অস্ত্র ও স্বর্ণ চোরাচালানের বিরুদ্ধে আগস্ট মাসজুড়ে দেশব্যাপী এক বিশাল চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। মাসব্যাপী এই বিশেষ অভিযানে ৮০০ জন পেশাদার অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ৪ হাজার ৯২৯ গ্রাম (প্রায় ৫ কেজি) ওজনের অবৈধ স্বর্ণের বার ও অলংকার জব্দ করেছে বাহিনীটি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮৫ টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত এপিবিএন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে আগস্ট মাসের অভিযানের এই চাঞ্চল্যকর খতিয়ান তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করেন এপিবিএন সদর দপ্তরের ডিআইজি (অ্যাডমিন) ড. মোহাম্মদ শাহজাহান।
লাখ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা ও ক্যাসিনো সরঞ্জাম জব্দ
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের পাশাপাশি ২০০ গ্রাম রুপার বার, বিপুল পরিমাণ বিদেশি প্রসাধনী, শাড়ি, থ্রি-পিস ও বিপুল পরিমাণ ইমিটেশন জুয়েলারি উদ্ধার করা হয়েছে। এই স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনায় ১৭টি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করে ২৭ জন চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা পাচারকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে—
- যুক্তরাষ্ট্রের ৪০,০০০ ডলার (চলতি বাজারে যা প্রায় অর্ধকোটি টাকা)
- সৌদি আরবের ৫,৬৮৫ রিয়াল
- মালয়েশিয়ার ৩,২৯০ রিঙ্গিত
- কাতার ও আরব আমিরাতের রিয়াল-দিরহামসহ নগদ বাংলাদেশি ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭৬ টাকা।
তাছাড়া জাল টাকা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের এক মামলায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার জাল নোটসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অস্ত্র, মাদক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অভিযান
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে আগস্টে ৩৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জন ওয়ারেন্টভুক্ত এবং ১৫ জন এজাহারনামীয় দুর্ধর্ষ আসামি। অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে দুটি ওয়ান শুটার গান এবং গুলিসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ হাজার ৫২৫ পিস ইয়াবা, সাড়ে ৩ কেজির বেশি গাঁজা, বিপুল পরিমাণ মদ ও ৩ শতাদিক কার্টন সিগারেটসহ ১৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে এপিবিএন।
সাইবার ক্রাইম দমন ও প্রযুক্তিগত সাফল্য
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে আগস্ট মাসে অবিশ্বাস্য সাফল্য দেখিয়েছে এপিবিএন। মাসজুড়ে বিভিন্ন হ্যাকার চক্রের কাছ থেকে ৭৪৮টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে—
- ৩০টি হ্যাকড ফেসবুক আইডি
- ২০টি হ্যাকড হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট
- ২ট ই-মেইল এবং ১টি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট।
বিকাশ ও নগদ প্রতারক চক্রের হাত থেকে সাধারণ মানুষের ৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৮ টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর মাধ্যমে সরাসরি ৫৭২ জন নাগরিককে তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মানবিক ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভিযান
মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগস্টে নিখোঁজ হওয়া এক শিশুসহ ১৯ জন ভুক্তভোগীকে অক্ষত উদ্ধার করেছে বাহিনীটি। এছাড়া কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকাতেও অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে ২৩টি যানবাহন আটকসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ ত্রাণসামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “জনগণকে দ্রুত ও কার্যকর সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে এপিবিএনের প্রতিটি ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, লোহিত কোয়ার্টারের নিরাপত্তা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখতে আমাদের এই আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অভিযান ভবিষ্যতেও আরও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।”
