দীর্ঘদিন শাহবাগের ফুটপাতে বসবাস করা গোলাপি বেগম এবার নতুন ঠিকানা পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপহার দেওয়া নতুন বাড়িতে উঠেছেন তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামে নির্মিত বাড়িটি আনুষ্ঠানিকভাবে গোলাপি বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে গোলাপি বেগমের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ সময় তাঁকে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়।
‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
ফুটপাত থেকে নতুন ঠিকানায়
বছরের পর বছর ঢাকার শাহবাগের ফুটপাতে জীবন কাটিয়েছেন গোলাপি বেগম। অসহায় অবস্থায় তাঁর জীবনযাপনের বিষয়টি ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে।
চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একটি সমাবেশের সময় শাহবাগের ফুটপাতে বসবাসকারী গোলাপি বেগমকে দেখা যায়। তাঁর অসহায় জীবনযাপনের বিষয়টি তখন প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে বলে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিষয়টি মানবিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এরপর গোলাপি বেগমের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় এক বছর তাঁর চিকিৎসার পাশাপাশি ঢাকায় একটি বাসায় থাকার ব্যবস্থাও করা হয়।
স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ
চিকিৎসার পাশাপাশি গোলাপি বেগমের স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়। এ জন্য একটি স্থায়ী ঠিকানা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোলাপি বেগমকে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের জন্য নতুন একটি বাড়ি নির্মাণের নির্দেশ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও সংগঠনটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এরই ধারাবাহিকতায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামে গোলাপি বেগমের জন্য একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করা হয়।
গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে সেই বাড়ির চাবি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ফুটপাতে বসবাসের পর এবার নিজের একটি ঘর পেলেন গোলাপি বেগম। নতুন বাড়িতে ওঠার মাধ্যমে তাঁর জীবনে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে চাবি হস্তান্তর
রতনপুর গ্রামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে গোলাপি বেগমের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
এ সময় গোলাপি বেগমকে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, শাকিল আহমেদ ও শাহাদত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আরও উপস্থিত ছিলেন কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান, হাসানুর রহমান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতারা।
অসহায় মানুষের পাশে থাকার কথা
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা গণমাধ্যমকে বলেন, সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর অন্যতম লক্ষ্য।
তাঁরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংগঠনটি মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসনমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানান তাঁরা।
গোলাপি বেগমের পুনর্বাসনকে এ ধরনের একটি মানবিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন সংগঠনটির নেতারা।
চিকিৎসা থেকে পুনর্বাসন
গোলাপি বেগমের পুনর্বাসনের উদ্যোগটি একদিনে নেওয়া হয়নি। প্রথমে তাঁর অসহায় অবস্থার বিষয়টি নজরে আসার পর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর তাঁর চিকিৎসার পাশাপাশি ঢাকায় একটি বাসায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এরপর স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের রতনপুর গ্রামে বাড়িটি নির্মাণের পর গতকাল সেটি তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফলে দীর্ঘদিনের অনিশ্চিত জীবন শেষে গোলাপি বেগমের জন্য তৈরি হলো একটি স্থায়ী ঠিকানা। শাহবাগের ফুটপাতের পরিবর্তে এখন থেকে তিনি নিজের বাড়িতেই বসবাস করবেন।
নতুন বাড়িতে নতুন জীবন
রাজধানীর ব্যস্ত ফুটপাতে দীর্ঘদিন বসবাসের পর গ্রামে নিজের একটি বাড়ি পাওয়ার ঘটনা গোলাপি বেগমের জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে। চিকিৎসা ও থাকার ব্যবস্থা করার পর এবার স্থায়ীভাবে থাকার জন্য তাঁকে একটি বাড়ি দেওয়া হলো।
নতুন বাড়ির চাবি হাতে পাওয়ার মাধ্যমে তাঁর পুনর্বাসন কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’।
সংগঠনটির নেতারা জানান, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজ ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
গোলাপি বেগমের মতো অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।
শাহবাগের ফুটপাত থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রতনপুরের নতুন বাড়ি—গোলাপি বেগমের জীবনে এই পরিবর্তন এসেছে প্রায় এক বছরের চিকিৎসা, থাকার ব্যবস্থা ও পুনর্বাসন উদ্যোগের পর। এখন নতুন ঠিকানাতেই শুরু হবে তাঁর নতুন জীবন।

