দুপুরের পরই আসতে পারে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন

২০ গ্রেডই থাকছে, সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা; তিন ধাপে বাস্তবায়ন

ডেস্ক রিপোর্ট

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের। বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর প্রকাশ হতে পারে। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) থেকে প্রজ্ঞাপন ছাপার কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। শুক্রবার রাতেও বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপনের ছাপার কাজ চলেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ দুপুরের পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে।

নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা ছিল। গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। সেখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির কথা বলা হলেও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার কারণে সময় লেগেছে প্রায় তিন সপ্তাহ। এখন প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আজই গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কয়েকজন জানিয়েছেন, নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। ইতিমধ্যে বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপন ছাপার কাজ চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও শেষ করা হয়েছে। এখন গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিক কাজ চলছে।

তাঁদের ভাষ্য, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে শনিবার দুপুরের পরই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হতে পারে।

প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ, অর্থাৎ পে-ফিক্সেশনের কাজও এরপর শুরু হবে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ৩১ আগস্ট

গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন বাড়ানো হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হারে বাড়ানো হয়েছে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন। এই গ্রেডে বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪২ শতাংশ।

অন্যদিকে ১ম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ এই গ্রেডে মূল বেতন দ্বিগুণ হয়েছে।

নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

১ জুলাই থেকেই কার্যকর ধরা হবে

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ নয়, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হিসেবে ধরা হবে।

অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ তারিখকে কার্যকারিতার দিন ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন।

তবে একবারে পুরো বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে না। সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সামলাতে মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বড় অংশ ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

ফলে নতুন পে-স্কেলের ক্ষেত্রে মূল বেতন ও ভাতা—দুই অংশ আলাদা সময়ে কার্যকর হবে।

তিন ধাপে বাড়বে মূল বেতন

সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চলতি অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে। তবে মূল বেতন ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে এর পেছনে ব্যয়ের চাপ ও মূল্যস্ফীতির বিষয় বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

একবারে পুরো বেতন বাড়ালে সরকারের ওপর বড় ধরনের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে কার্যকারিতার তারিখ হিসেবে ১ জুলাই ২০২৬-ই ধরা হয়েছে। ফলে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সময় এই তারিখ বিবেচনায় নেওয়া হবে।

২০ গ্রেডই বহাল

নতুন পে-স্কেলেও সরকারি চাকরির ২০টি গ্রেড বহাল থাকছে। অর্থাৎ গ্রেডের সংখ্যা পরিবর্তন করা হয়নি।

২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে।

অন্যদিকে ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

এ হিসাবে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল বেতনের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১:১.৭৮। আগের কাঠামোয় এই অনুপাত ছিল ১:১.৯৪৫।

নতুন কাঠামোয় বেতন অনুপাত আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।

৯ম গ্রেডে বেতন ৪৪ হাজার টাকা

সরকারি চাকরিতে নতুন নিয়োগ পাওয়া অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য ৯ম গ্রেড গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তারা চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর সাধারণত এই গ্রেডে বেতন কাঠামোর আওতায় আসেন।

নতুন পে-স্কেলে ৯ম গ্রেডের মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৪ হাজার টাকা করা হয়েছে।

অর্থাৎ এই গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতনও দ্বিগুণ হয়েছে।

তবে একজন সরকারি কর্মচারী বা কর্মকর্তার হাতে পাওয়া মোট বেতন শুধু মূল বেতনের ওপর নির্ভর করে না। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসবসহ বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার ওপরও মোট বেতন-ভাতা নির্ভর করে।

ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালে

নতুন পে-স্কেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা কার্যকর করার সময়।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও ভাতার বড় অংশ ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

অর্থাৎ মূল বেতন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের ভাতা একসঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে না।

এভাবে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য ৩ হাজার টাকা

নতুন বেতন কাঠামোয় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য নতুন একটি ভাতার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এ অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

এ ছাড়া সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

নতুন এসব সুবিধা সরকারি চাকরিজীবীদের পারিবারিক ব্যয় ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছুটা সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মূল গেজেটের সঙ্গে আলাদা এসআরও

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য শুধু একটি মূল গেজেট প্রকাশ করলেই কাজ শেষ হবে না। বিভিন্ন বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক বাস্তবায়ন আদেশ বা এসআরও জারি করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মূল গেজেটের পাশাপাশি প্রায় ৫ থেকে ৭টি পৃথক এসআরও জারির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সশস্ত্র বাহিনী, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক বাস্তবায়ন আদেশ থাকবে।

ফলে সব সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়ায় বেতন নির্ধারণ না হয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও চাকরির কাঠামো অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।

আইবাস++ সফটওয়্যারে পরিবর্তন

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সরকারি বেতন-ভাতা ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার আইবাস++-এও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ ও পরিশোধের ক্ষেত্রে আইবাস++ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২০১৫ সালের পে-স্কেল কার্যকর করার সময় এই সফটওয়্যার ব্যবহারের ব্যবস্থা ছিল না। এবার নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হওয়ায় সফটওয়্যারে নতুন হিসাব কাঠামো যুক্ত করতে হচ্ছে।

এর মধ্যে বেতন পুনর্নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন হিসাবের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনও আনা হচ্ছে।

অবসরপ্রাপ্তদের তথ্যও সমন্বয় হচ্ছে

নতুন পে-স্কেলের প্রভাব শুধু কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর নয়, পেনশনভোগীদের ওপরও পড়বে।

ইতিমধ্যে অবসরে যাওয়া প্রায় সোয়া ৯ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর তথ্য এবং পেনশনের স্তর সমন্বয়ের কাজ চলছে।

নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী পেনশন পুনর্নির্ধারণের জন্য এসব তথ্য সফটওয়্যারে হালনাগাদ করা হচ্ছে।

গেজেট প্রকাশের পর বেতন ফিক্সেশনের পাশাপাশি পেনশন ও অন্যান্য পাওনা সমন্বয়ের কাজও শুরু হবে।

পেনশনেও বড় পরিবর্তন

নতুন বেতন কাঠামোয় পেনশনভোগীদের জন্যও সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে।

নিট পেনশনের পরিমাণ অনুযায়ী বিভিন্ন হারে পেনশন বাড়ানো হবে।

যাঁদের নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা তার কম, তাঁদের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে।

৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনধারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনধারীদের ক্ষেত্রে বাড়বে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত।

৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনধারীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার হবে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত।

আর ৪০ হাজার ১ টাকার বেশি নিট পেনশনধারীদের জন্য ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে।

অর্থাৎ পেনশনের পরিমাণ যত বেশি, নতুন কাঠামোয় বৃদ্ধির হার তত কম রাখা হয়েছে।

‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা

নতুন কাঠামোয় পেনশন ব্যবস্থায় আরও একটি বড় পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

এর লক্ষ্য হলো একই গ্রেডে চাকরি করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন ব্যবস্থায় একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কাঠামো তৈরি করা।

নতুন কাঠামোয় পেনশন বৃদ্ধির হার পেনশনের স্তর অনুযায়ী ৫৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

প্রায় ২৪ লাখ কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী উপকৃত

নতুন পে-স্কেলের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ সরাসরি উপকৃত হবেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২৪ লাখ কর্মরত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাবেন।

এর সঙ্গে প্রায় ৯ লাখ ২৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীও নতুন পেনশন কাঠামোর আওতায় আসবেন।

অর্থাৎ নতুন বেতন কাঠামোর প্রভাব সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক পেনশনভোগীর ওপরও পড়বে।

বছরে অতিরিক্ত ব্যয় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের ওপর বড় ধরনের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

এই বড় অঙ্কের অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতেই মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের রাজস্ব আয়, মূল্যস্ফীতি, বাজেটের সক্ষমতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বেতন ফিক্সেশন ও বকেয়া সমন্বয়

প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

একে বলা হয় বেতন ফিক্সেশন বা বেতন পুনর্নির্ধারণ।

নতুন কাঠামোর কার্যকর তারিখ ১ জুলাই ২০২৬ হওয়ায় ওই তারিখ থেকে নতুন বেতন অনুযায়ী পাওনা নির্ধারণের বিষয়টি সামনে আসবে।

এর ফলে যাঁদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির কারণে বকেয়া পাওনা তৈরি হবে, তাঁদের বকেয়া সমন্বয়ের প্রক্রিয়াও নির্ধারিত নিয়মে সম্পন্ন করতে হবে।

তবে কার কত টাকা বকেয়া হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, চাকরির ধরন এবং নতুন কাঠামোর ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ওপর।

এক দশকের বেশি সময় পর নতুন কাঠামো

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল আসছে এক দশকের বেশি সময় পর।

২০১৫ সালের পে-স্কেলের পর দীর্ঘ সময় ধরে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি ছিল সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে।

নতুন পে-স্কেলে গ্রেডভেদে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

২০তম গ্রেডে বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ।

এর ফলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতনে তুলনামূলকভাবে বড় পরিবর্তন আসছে।

এক নজরে নবম পে-স্কেল

কার্যকর তারিখ: ১ জুলাই ২০২৬

গ্রেড: ২০টি, আগের মতোই বহাল

সর্বনিম্ন মূল বেতন: ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা

সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১ম গ্রেডে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা

২০তম গ্রেড: ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা

২০তম গ্রেডে বৃদ্ধি: ১৪২ শতাংশ

১ম গ্রেড: ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা

১ম গ্রেডে বৃদ্ধি: ১০০ শতাংশ

৯ম গ্রেড: ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা

সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত: ১:১.৭৮

মূল বেতন বাস্তবায়ন: তিন ধাপে

ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা: ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকরের সিদ্ধান্ত

প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা: মাসে ৩ হাজার টাকা

উপকারভোগী কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী: প্রায় ২৪ লাখ

পেনশনভোগী: প্রায় ৯ লাখ ২৫ হাজার

অতিরিক্ত বার্ষিক সরকারি ব্যয়: আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা

এখন অপেক্ষা প্রজ্ঞাপনের

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হয়েছে। বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপন ছাপার কাজও চলছে।

সব আনুষ্ঠানিকতা ঠিকঠাক থাকলে আজ শনিবার দুপুরের পরই নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হতে পারে।

প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন পদ্ধতি, বেতন ফিক্সেশন এবং বকেয়া সমন্বয়ের বিস্তারিত নির্দেশনা।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য তাই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। তবে পুরো সুবিধা একসঙ্গে না এসে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। মূল বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভাতা, পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পরিবর্তনও নতুন কাঠামোর অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হবে।

image_print
Spread the love
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted