আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।। অনলাইন সংস্করণ
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
জোহানেসবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকা: দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলে একের পর এক নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে একই বৃহত্তর অঞ্চল থেকে নবম এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে জোহানেসবার্গের ডন পার্ক এলাকার একটি নির্জন রাস্তার পাশ থেকে চাদরে মোড়ানো ও অর্ধনগ্ন অবস্থায় ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নারীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি, তবে তাঁর বয়স ৩০-এর কোঠায় বলে ধারণা করছে পুলিশ। তাঁর শরীরে জঘন্য আঘাত ও ছুরিকাঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে।
সিরিয়াল কিলারের ছায়া? তদন্তে বিশেষ টিম
পুলিশের তথ্যমতে, গত জুলাই মাস থেকে জোহানেসবার্গের বৃহত্তর একুরহুলেনি এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে একে একে আরও আট নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে নৃশংস আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং অনেকেই আংশিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় ছিলেন।
উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে রয়েছেন:
- এলিজাবেথ ‘সোনসো’ মোসেলাকগোমো (৩৮): গত সপ্তাহে বিকেলে দৌড়াতে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর একটি হোটেলের পেছন থেকে তাঁর মরদেহ মেলে।
- ইতুমেলং কেকানা: গত জুলাই মাস থেকে নিখোঁজ থাকার পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার হয়।
- ডিনিও এভলিন মোতাপানে (৩৮): গত মঙ্গলবার কোয়াথেমার একটি রাস্তার পাশে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।
এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো ‘সিরিয়াল কিলার’ বা ধারাবাহিক হত্যাকারী জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ গোয়েন্দা, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও বিশেষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ একজন ‘পার্সন অব ইন্টারেস্ট’-কে খুঁজছে।
প্রথম মার্ডারে একজন গ্রেপ্তার, পুরস্কার ঘোষণা
গত ১৫ জুলাই কেম্পটন পার্কে প্রথম মরদেহটি উদ্ধারের দুদিন পর এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যিনি এখনো পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তবে পরবর্তী হত্যাকাণ্ডগুলোর সঙ্গে তাঁর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে প্রশাসন ৪ লাখ দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড (প্রায় ২৪ হাজার মার্কিন ডলার) পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
ভারপ্রাপ্ত পুলিশমন্ত্রী ফিরোজ কাচালিয়া জনমনকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আপাতদৃষ্টিতে ঘটনাগুলো ‘আলাদা ও স্বতন্ত্র’ মনে হলেও কোনো একটি সুনির্দিষ্ট অপরাধী গোষ্ঠী এর পেছনে রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নারীদের জন্য জরুরি সতর্কতা ও ‘জাতীয় দুর্যোগ’
দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার হার বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশ নারীদের জন্য বিশেষ জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে:
১. নির্জন পথ পরিহার করা এবং একা হাঁটা থেকে বিরত থাকা।
২. অপরিচিত ব্যক্তি ও সন্দেহজনক যানবাহন থেকে দূরে থাকা।
৩. হাঁটার সময় উচ্চ শব্দে ইয়ারফোন বা ইয়ারবাড ব্যবহার না করা, যাতে চারপাশের পরিস্থিতি টের পাওয়া যায়।
৪. বাইরে যাওয়ার সময় বিশ্বস্ত কাউকে নিজের অবস্থান জানিয়ে রাখা।
১. নির্জন পথ পরিহার করা এবং একা হাঁটা থেকে বিরত থাকা।
২. অপরিচিত ব্যক্তি ও সন্দেহজনক যানবাহন থেকে দূরে থাকা।
৩. হাঁটার সময় উচ্চ শব্দে ইয়ারফোন বা ইয়ারবাড ব্যবহার না করা, যাতে চারপাশের পরিস্থিতি টের পাওয়া যায়।
৪. বাইরে যাওয়ার সময় বিশ্বস্ত কাউকে নিজের অবস্থান জানিয়ে রাখা।
উল্লেখ্য, দেশটিতে নারীদের ওপর নির্যাতন ও হত্যার হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গত নভেম্বর মাসে সরকার এটিকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ হিসেবে ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছিল।
