আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।। অনলাইন সংস্করণ
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপর নজরদারি ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কৌশলগত ‘কাহবুব পাহাড়শ্রেণি’ ঘিরে নতুন করে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়েছে। লোহিত সাগরে নিজেদের আধিপত্য আরও সুসংহত করতে হুতি বিদ্রোহীরা এই গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে বলে স্থানীয় সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা।
কাহবুব পাহাড়শ্রেণির ভৌগোলিক অবস্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এই পাহাড়গুলো থেকে বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে বিস্তৃত সমুদ্র অঞ্চলের ওপর সরাসরি সামরিক নজরদারি করা সম্ভব। এছাড়া কৌশলগত মায়ুন দ্বীপের কাছাকাছি হওয়ায় এই পাহাড়ের সামরিক গুরুত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
হুতিদের কয়েক দফা হামলা ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি
কাহবুব ফ্রন্টে হুতিদের এই অগ্রযাত্রা রুখে দেওয়ার দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যৌথ বাহিনী। তাদের ভাষ্যমতে, পাহাড়ি এলাকার আরও গভীরে অনুপ্রবেশের উদ্দেশ্যে হুতিরা ভারী অস্ত্রশস্ত্র এবং বিপুলসংখ্যক যোদ্ধা মোতায়েন করে হামলা চালায়।
সরকারপন্থী বাহিনীগুলোর দাবি, প্রতিরোধ হামলায় হুতিদের বেশ কয়েকজন যোদ্ধা নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে হুতিদের ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জাম, যানবাহন ও বেশ কিছু অগ্রবর্তী অবস্থান ধ্বংস করা হয়েছে। যৌথ বাহিনী আরও দাবি করেছে, কাহবুব পাহাড়ের আকাশসীমায় নজরদারি করতে থাকা হুতিদের একটি ড্রোন তারা গুলি করে ভূপাতিত করেছে। তবে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে এই হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
অন্যান্য ফ্রন্টেও অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ
কাহবুব এলাকার পাশাপাশি আল-মুদারাবা ফ্রন্টেও হুতিদের একটি বড় ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে সরকারপন্থী ‘ন্যাশনাল শিল্ড বাহিনী’। বাহিনীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘সাউদার্ন জায়ান্টস ব্রিগেডের’ সহযোগিতায় তারা হুতিদের ওই পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেয় এবং অভিযান চালিয়ে দুই হুতি যোদ্ধাকে আটক করে। ইয়েমেনের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হুতিদের অগ্রযাত্রা রুখতে এই দুই বাহিনী মোচা ও বাব আল-মানদেব এলাকায় প্রধান প্রতিরোধ বুহ্য গড়ে তুলেছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই কাহবুব পাহাড়?
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কাহবুবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া মানে কেবল স্থলভাগে এগিয়ে যাওয়া নয়, বরং বাব আল-মানদেবের আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের ওপর সরাসরি সামরিক চাপ তৈরি করা। এটি হুতিদের লজিস্টিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করবে।
হুতিরা সম্প্রতি ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তারা মোখা বন্দর দখলের পর দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে ধুবাব এবং প্রণালির ঠিক মাঝখানে অবস্থিত কৌশলগত মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। উপকূলীয় এই বিশাল অঞ্চল নিজেদের দখলে রাখার জন্য এবং সরকারি বাহিনীর পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে হুতিদের জন্য কাহবুব পাহাড়ের মতো প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান জয় করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাবের আশঙ্কা
লোহিত সাগর দিয়ে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী শত শত বাণিজ্যিক ও জ্বালানি তেলের জাহাজের জন্য বাব আল-মানদেব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক লাইফলাইন। মায়ুন দ্বীপের পর এবার যদি হুতিরা কাহবুব পাহাড়ের ওপর পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে। এর ফলে বাণিজ্যিক জাহাজের বিমা ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়া এবং বিকল্প দীর্ঘ নৌপথ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে বড় ধাক্কা দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
